Featured Post

ওরে মূর্খ জজ, রনিকে তুই জাতীয় নেতা বানিয়ে দিলি।

ওরে মূর্খ জজ, রনিকে তুই জাতীয় নেতা বানিয়ে দিলি।  তোকে ধন্যবাদ রনি জিন্দাবাদ।।  জয়তু রনি, জয়তু ছাত্রলীগ জয়তু শেখ হাসিনা ★★★ মনে করে...

Thursday, June 7, 2018

রনি রা যেনো হারিয়ে না যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী, রনিরা যেন হারিয়ে না যায়


একটা সংগঠনের একটা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। সরকার দলে এমন পদধারী নেতা সারাদেশে শত শত। অনেক নেতা গ্রেফতারও হয়েছেন নানান কারণে, নানান ঘটনায়। কিন্তু এতো বাদভাঙা আবেগ, ক্ষোভ, প্রতিবাদ রনি ছাড়া আর কোন নেতার জন্য অন্তত গত দশ বছরে দেখা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহ শত ছাত্র, চট্টগ্রাম ও ঢাকার অগণিত সাংবাদিক একজন রনির গ্রেফতার যে মানতে পারছেন না তা সহজেই অনুমেয়। স্বয়ং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনও রনির গ্রেফতারটি মানতে পারেননি।

প্রত্যেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রনির গ্রেফতারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গোটা চট্টগ্রাম জুড়ে এই রনিই এখন আলোচনার প্রধান বিষয়।

একটা কথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, কোন নেতা যখন জনপ্রিয়তা, বিনয়ীতা গ্রহণযোগ্যতা, দক্ষতায়, নেতৃত্বে, শীর্ষে অবস্থান করে তখন সে আততায়ীর টার্গেটে পরিণত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেদিন গোটা জাতিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছিলেন, তারপর দিন থেকেই বঙ্গবন্ধুকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে কি যাবে না – তা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আশপাশের শক্তিশালী একটি পক্ষ নিয়ে শুরু করে ষড়যন্ত্র।

একই ভাবে গান্ধী, বেনজির ভুট্টো, সাদ্দাম, গাদ্দাফিদেরও একই পরিনতি। কাউকেই রেহাই দেওয়া হয়নি।
আজ চট্টগ্রাম শহরের প্রতিটি ক্যাম্পাসে রনিরা ছাত্রলীগের পতাকা উড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে বিনা রক্তপাতে। রনির পরিনতিও তাই এমন হতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নের্তৃত্বের জন্য নুরুল আজিম রনি কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তার সারসংক্ষেপ তুলে ধরতে আজ এই লিখা।
মুসলিম হাইস্কুলের মাঠ দখল করে মাইক্রোবাস মালিক-চালকরা বানিয়েছে স্ট্যান্ড। রনি সেখানে দাড়িয়ে স্ট্যান্ডে নিয়েছে এই বাসস্ট্যান্ড থাকবে না। স্কুলের বাচ্চাদের সংগঠিত করে টানা আন্দোলন, স্মারকলিপি প্রতিবাদ মিছিল করে ওই বাসস্ট্যান্ড উঠিয়ে নিতে প্রশাসনকে বাধ্য করেছে। 
১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি নগরের লালদীঘি মাঠে শেখ হাসিনার সমাবেশে পুলিশের গুলিতে ২৪ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে ১৯৯১ সালে আদালত ভবনের প্রবেশমুখে সরকারি জায়গায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৮ সালের গণহত্যায় নিহত শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের জায়গা দখল করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে চেয়েছিল আইনজীবী সমিতি। সেখানে হাজির হয়ে যায় রনির নের্তৃত্বে ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মী। শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে রনি সেই গণহত্যার স্মৃতি রক্ষায় টানা আন্দোলন গড়ে তুললে প্রশাসনের টনক নড়ে। টনক নড়ে যায় আইনজীবি সমিতির সেই নেতাদের, যারা গণহত্যার স্মৃতি মুছে ফেলতে চেয়েছিল। রনির হস্তক্ষেপে সেই স্মৃতিস্তম্ভ রক্ষা পায়।

সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে সাতটা প্রশ্নে উত্তর দিতে হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টসাধ্য। এবং বিষয়টি অযৌক্তিক। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন এ বিষয়টি চিন্তিত তখন রনি তাদের নিয়ে নেমে গেলেন মাঠে। স্কুলের কোমলমতি শিশুদের দু:খ বুঝে একের পর এক আয়োজন করতে থাকে মাননবন্ধনের। এমনকি চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কার্যালয়ের সামনেও শিশুদের নিয়ে হাজির হন রনি।
শিক্ষা খাতে অতিরিক্ত ভ্যাট চাপিয়ে দেওয়া বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনের দেখা গেছে রনিকে। যে বিষয়টি নিয়ে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কোন ইউনিটের নেতাকে কথা বলতে দেখা যায়নি।
গণপরিবহনে ঢাকা শহরে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া নির্ধারিত রয়েছে। চট্টগ্রামে এই প্রথা চালুর দাবিতে কার্যকর একটি আন্দোলন গড়েছিল রনি। মানববন্ধন, স্মারকলিপি, লিফলেট বিতরণসহ নানা ভাবে এ বিষয়ে সরকারের দুষ্টি আনার চেষ্টা করে এই ছাত্রনেতা। সফল হয়েছেনও তিনি। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এক পর্যায়ে রনির ওবায়দুল কাদের এ আন্দোলনের পক্ষে চট্টগ্রামে এসে মতামত ব্যক্ত করেন।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলীয় সদর দফতর এলাকায় (সিআরবি) বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের সাহসী সেনা প্রীতিলতা সেনে স্মৃতিস্তম্ভ দখলের প্রতিবাদ করতে রাজপথে নেমেছে এই রনি। তাঁর নের্তৃত্বে আন্দোলন গড়ে উঠলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয় এই স্মৃতিস্তম্ভ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে।
আওয়ামী লীগের নেতাদের নানামুখী গ্রুপিংয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অভিভাবকতুল্য নেতাদের একটি প্লাটফর্মে নিয়ে এনে দলের ভাবিমূর্তি রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন তিনি। এসব বিষয়ে যৌক্তিকভাবে, দলের সম্মান অক্ষুন্ন রেখে নানা সময় ফেসবুকে লিখেছেন তিনি।
নগরীর স্কুলগুলোতে নিজে হাজির থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু আর নিজেদের অধিকার আদায়ের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে নুরুল আজিম। নগরীর বেশির ভাগ হাইস্কুলে বিভিন্ন দিবসে তিনি ছুটে গেছেন কেক আর ফুল হাতে। স্কুলের ছেলেদের সাথে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এই ছাত্রনেতা স্কুলের ছেলেদের করেছেন উদ্বুদ্ধ।
এসএসসি পরীক্ষায় অতিরিক্ত রেজিস্টেশন ফি নেওয়ার প্রতিবাদে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছেন এই ছাত্রনেতা রনি। যার আন্দোরনের ফল হিসেবে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দুই দিন আগে ফিরে পেয়েছিলেন অতিরিক্ত পরিশোধ করা সেই অর্থ। চোখেমুখে সেদিন শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সে কি উচ্ছ্বাস!
দীর্ঘ ত্রিশ বছর যাবৎ ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ছিল মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের নিয়ন্ত্রণে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার টানা সাত বছর ক্ষমতায় থাকলেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের জামায়াত-শিবির তোষণের কারণে এ দুই কলেজে একদিনের জন্যও প্রগতির শ্লোগান দেওয়া সম্ভব হয়নি।
যার কারণে এ কলেজে ছাত্রলীগের পক্ষে সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা ছিল দু:সহ ও অসাধ্য ব্যাপার। গত ১৬ ডিসেম্বর সেই অসাধ্য কাজটি সাধন করে দেশের ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই হয়েছেন নুরুল আজিম রনি। বিনা রক্তপাতে ছাত্র শিবিরকে বিতাড়িত করে এই দিই কলেজের ছাত্র সংসদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নিজ হাতে টাঙিয়ে দেয় নুরুল আজিম রনি।
সেই দিন থেকেই নুরুল আজিম রনি’র জন্য অপেক্ষা করতে থাকে একেকটি বুলেট। হ্যাঁ অবশ্যই এ বুলেট হওয়ার কথা ছিল প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর হাতে থাকা কোন মারণাস্ত্রের।
কিন্তু অবাক হয়ে সবাই দেখলো, যে রনি চারটি বছর ধরে চট্টগ্রাম নগরীর পাড়ায় পাড়ায় শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে তরুণদের সংগঠিত করেছে, টাকার পেছনে না ছুটে সংগঠন সংগঠন করে জীবনবাজি রেখেছে, গোটা ছাত্রশিবিরের ত্রিশ বছরের দূর্গকে ভেঙে বাংলাদেশে ছাত্রলীগকে উপহার দিয়েছে দুটি সেরা কলেজ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‍অধিকার ‍আদাযে যে রনি রাত-দিনের পার্থক্য করেনি – আজ সেই রনিকে বিতর্কিত ভাবে গ্রেফতারের পর শার্টের কলার ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে হবে তা কল্পনাতেও ভাবেনি বীর চট্টলার মানুষ।
তবে হ্যাঁ, নুরুল আজিম রনি যদি অবৈধ অস্ত্রধারী হয়ে থাকে তাহলে তার বিচার হতে হবে। কিন্তু এই লিখা সে দাবিতে নয়। কারণ তাকে কথিত দোষী সাব্যস্ত করে রাস্তার উপর সাজা দিয়ে দিয়েছে মহামান্য আদালত।
আজ পর্যন্ত গত এক বছরে গোটা দেশে যতগুলো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছে সবকটিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন বিজিবসহ। ইউপি ইলেকশন চলাকালে গোটা চট্টগ্রাম জেলায় একজন জাল ভোট প্রদানকারীকে, ভোট কেন্দ্র দখলকারীকে, গোলাগুলিকারীকে বিজিবি দিয়ে আটক করিয়ে সাথে সাথে একদিনের জন্য কোন সাজা দেওয়া হয়েছে কিনা তা আমাদের জানাতে হবে।
অসংখ্য অস্ত্রধারী, অসংখ্য গোলযোগ সৃষ্টিকারীর মাঝে শুধুমাত্র রনিকেই কেন গ্রেফতার করে সাথে সাথে একদিন নয়, দুই দিন নয়, দুই বছরের কারাদন্ড দেওয়া হল কেন? এই প্রশ্নটির উত্তর আমাদের জানতে হবে।
গত চারটি বছরে রনি তার কথিত পিস্তলটি দিয়ে কাউকে গুলি করেছে কিনা, তার গুলিতে কোন শিশু থেকে বৃদ্ধ গুলিবিদ্ধ কিংবা নিহত হয়েছে কিনা তাও আমাদের জানতে হবে।
একটি দাবি দিয়ে গেলাম, আজ থেকে পথে পথে, ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিজিবিসহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হোক। সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পর সরকার যদি এক সপ্তাহ টিকে থাকে তাহলে বলতে বাঁধা নেই, আওয়ামী লীগ চিরজীবী হোক।
যদি টিকে না গিয়ে পিছলে পড়ে যায়, তাহলে দেখা যাবে বীরের বেশে শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে নিজের বুক পেতে দিতে কালজয়ী এই রনিরা ছাড়া ক’জন বুক পেতে দেয়। তাই আওযামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ, রনিরা যেন হারিয়ে না যায়, হতাশ হয়ে না পড়ে-সে লক্ষ্যে আপনি হস্তক্ষেপ করুন। ওদের পেছনে লেগে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের সরিয়ে নিন। রনি শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ কিংবা ছাত্রলীগের সম্পদ নয়, রনি গোটা চট্টগ্রামের সম্পদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অগণিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে নুরুল আজিম রনিই একমাত্র ‘ছাত্রনেতা’ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
লেখক-
মাসুদ ফরহান অভি
সাংবাদিক ও
শিক্ষার্থী, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
মেইল: forhanovi6@gmail.com

No comments:

Post a Comment